Logo
প্রিন্টের তারিখ: 04 September 2026 | প্রকাশের তারিখ: Sep 5, 2026

সংবাদ শিরোনাম : ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই কার্যকর হবে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক চুক্তি, দাবি ট্রাম্পের

ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিলেই কার্যকর হবে সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক চুক্তি, দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি কার্যকর হওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শর্ত রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে এবং আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দিয়ে দেশটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তি শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ বা বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য। এতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কোনো সুযোগ রাখা হবে না এবং সামরিক উদ্দেশ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশ্নই আসে না।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ বুধবার সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তির ঘোষণা দিলেও তখন ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া বা আব্রাহাম চুক্তিতে যোগ দেওয়ার মতো কোনো শর্তের কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করা হয়নি। এখন পর্যন্ত চুক্তির পূর্ণাঙ্গ নথিও প্রকাশ করা হয়নি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এবং সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান। তবে এটি কার্যকর হওয়ার আগে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন।
এদিকে, সম্ভাব্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন বিশ্লেষকের মতে, সৌদি আরবকে এ ধরনের সক্ষমতা দেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে যে, একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বাস্তব অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না। ফলে ট্রাম্পের উল্লিখিত শর্ত বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
মার্কিন জ্বালানি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সহযোগিতা চুক্তি ভবিষ্যতে কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তি তৈরি করবে। পাশাপাশি পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।
তবে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, চুক্তিতে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পর্যায়ের পরিদর্শন ব্যবস্থা বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বরং ভবিষ্যতে যৌথ সমীক্ষার ভিত্তিতে সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও জানা গেছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক এই সময়ের
সকল কারিগরি সহায়তায়ঃ দৈনিক এই সময়ের
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF